দান ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাওয়া এক আলোকিত নাম: ড. মাহমুদ হাসান
একজন মানুষ চলে গেলেও তাঁর কর্ম, স্বপ্ন আর অবদান থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে। এমনই এক আলোকিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন ফটিকছড়ির দানবীর ও শিক্ষানুরাগী মরহুম ড. মাহমুদ হাসান। ১ এপ্রিল তাঁর নবম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি ঘিরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনসহ নানা সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী মহলে স্মরণ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আবহ বিরাজ করছে।
শিক্ষাকে সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিশ্বাস করতেন ড. মাহমুদ হাসান। পাহাড়ঘেরা জনপদে শিক্ষা বিস্তারে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা আজও মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি শুধু অবকাঠামো নয়, গড়ে তুলেছেন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও প্রজন্মের স্বপ্ন দেখার সাহস।
তাঁর হাতে গড়ে ওঠা ড. মাহমুদ হাসান একাডেমী ও ফাউন্ডেশন আজও শিক্ষা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রস্তাবিত গামরীতলা ড. মাহমুদ হাসান মেটারনিটি হাসপাতাল এবং বখতপুর সাজেদা হাসান মহিলা কলেজ তাঁর দূরদর্শী চিন্তারই প্রতিফলন, যা এলাকার স্বাস্থ্য ও নারী শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা জাগায়।
শুধু শিক্ষা নয়, সমাজসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিল তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে প্রবাস জীবনে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব—সবখানেই তিনি রেখেছেন দক্ষতার স্বাক্ষর। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে সেক্টরস কমান্ডার্স ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও তাঁর দেশপ্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন। তাঁর মানবিকতা ছিল অনন্য। দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা; সবকিছুতেই তিনি ছিলেন উদার ও নিরলস। ৪৭টি উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে তাঁর অবদান সত্যিই বিরল। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ফটিকছড়ির নানুপুর রহমত বাড়িস্থ তাঁর কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, খতমে কুরআন, বিশেষ মোনাজাত ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালিত হবে। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। ড. মাহমুদ হাসান হয়তো শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর বপন করা শিক্ষা ও মানবতার বীজ আজও অঙ্কুরিত হয়ে সমাজকে আলোকিত করছে। তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর।